আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে যত কথা

এনামুল সাদিক: কেউ কেউ ভাবেন আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের হুমকি হতে পারে। ধ্বংস করে দিতে পারে দেশ থেকে দেশান্তর। আবার অনেকে পজিটিভ দৃষ্টিতে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে কাজে লাগিয়ে পৃথিবীকে আরো গতিময় ও আরো প্রাণোচ্ছল করে তুলবে। সাধিত হবে অনেক অসাধ্য কাজ। মানুষের বিকল্প হিসেবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স খুবই জরুরি বলে মনে করেন অনেকে।
এবার জেনে নিই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কি? আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স মানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। অধিকাংশ মানুষের কাছে এটি হচ্ছে রোবট জাতীয় কিছু আবার অনেক কাছে এটি হচ্ছে মানুষের মত চিন্তা করতে সক্ষম কোন মেশিন অথবা প্রোগ্রাম আবার অনেকের কাছে “মানবীয় অনুভূতি” সম্পন্য মেশিন অথবা প্রোগ্রাম। সাধারণভাবেই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের একটা উদাহরণ আমরা পেতে পারি। সার্চ ইঞ্জিন গুগলে আমরা কিছু লিখতে গেলেই সে নিজে থেকে কিছু সাজেশন আমাদের জানায়। খুব সাধারণভাবে, এটাই আমাদের চাওয়ার সাথে সাথে গুগলের নিজস্ব চিন্তা করবার ক্ষমতা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। বিজ্ঞানীরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছেন।
— Artificial Narrow Intelligence ( ANI) —Artificial General Intelligence (AGI) —Artificial Super Intelligence.(ASI)
আমরা এখন আছি প্রথম ধাপ অর্থাৎ ANI ধাপে। ANI সিস্টেম ১৯৯৭ সালে মানুষকে হারিয়ে তার দাপট শুরু করে। ‘ডীপ ব্লু’ নামের একটি কম্পিউটার বিশ্বখ্যাত দাবার গ্রান্ডমাস্টার চ্যাম্পিয়ন গ্যারি কাসপারভকে হারিয়ে দেয়। তারপরের বছরেই আলফা গো মানুষকে হারায় ANI ব্যাবহার করে। আলফা গো নামক কম্পিউটার প্রোগ্রামটি তৈরি করে গুগলের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ডীপমাইন্ড। ২০৪০ থেকে ২০৬০ সালকে দ্বিতীয় ধাপ অর্থাৎ AGI বলে বিজ্ঞানীরা বেছে নিয়েছে। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের দ্বিতীয় ধাপ AGI । একে Strong AI বা Human Level AI- ও বলা হয়। AGI ধাপে যন্ত্র মানুষের মত চিন্তা করতে পারবে, পরিকল্পনাকরতে পারবে, সমস্যা সমাধান করতে পারবে, হঠাৎ নতুন ভিন্ন কোন পরিবেশে চারপাশ সাপেক্ষে নিজেকে মানিয়ে নেবার মত সক্ষমতা অর্জন করবে। ১৯৬০ সালের পরবর্তী বিশ বছরকে ASI ধাপে ভাগ করা হয়েছে। ASI হবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের তৃতীয় ও সর্বাধুনিক পর্যায়।
যন্ত্র যখন মানুষ থেকেও দক্ষ ভাবে চিন্তা করতে পারবে তখনই যন্ত্র আর্টিফিশিয়াল সুপার ইন্টেলিজেন্স পর্যায়ে নিজেকে নিয়ে যাবে। অবশ্য এই পর্যায়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিজ্ঞানীরা একই সাথে চিন্তিত ও শঙ্কিত। সবিশেষ আলোচনা এটাই রাখতে চাই,আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কে যদি কাজে লাগানো যায় সত্যি এক বিশাল বিপ্লব ঘটে যাবে প্রযুক্তিবিশ্বে। বর্তমানে রোবটিক্স এর উপর আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর প্রভাব বেড়েই চলেছে। বিমান চালনায় অটো পাইলটিং এর ব্যবহার বাড়ছে। এমন প্রোগ্রামগুলোকে আরও বেশি বাস্তব পরিস্থিতি বান্ধব করে তৈরি করা হচ্ছে।
প্রোগ্রাম ব্যবহার করে একদিন পাইলট ছাড়াই প্লেন চলতে পারবে- এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছেন প্রোগ্রামাররা। অনেকক্ষেত্রে সেলফ ড্রাইভিং গাড়ির মাধ্যমে এব্যাপারে সফলতাও এসেছে। ইহাং-১৪৮ এর মাধ্যমে সেলফ পাইলটিং মানুষবাহী ড্রোন আমরা দেখছি এখন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে এরপরেও অনেক মুভি হয়েছে। প্রায় সবগুলোতেই দেখানো হয়েছে, কিভাবে কৃত্রিম নিজস্ব বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন রোবট মানবজাতির জন্য হুমকি হয়ে উঠবে। তবু বিজ্ঞানীদের উপর বিশ্বাস রেখে বলতে চাচ্ছি, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স গড়ে দিবে আমাদের স্বপ্নের পৃথিবী। এনে দিবে কাজের গতি সহজ থেকে সহজতর।


from home | natunbarta.com | Top Online Newspaper in Bangladesh https://ift.tt/2TOQVib
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে যত কথা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স নিয়ে যত কথা Reviewed by mehedi hasan on March 20, 2019 Rating: 5

No comments