সহসা মালয়েশিয়ায় চালু হচ্ছে না ই-পাসপোর্ট
বাংলাদেশে আজ থেকে (২২ জানুয়ারি) চালু হচ্ছে ই-পাসপোর্ট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালু হলেও মালয়েশিয়ায় সহসা এ কার্যক্রম শুরু হচ্ছে না।
হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বলছেন, মালয়েশিয়ায় ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে কোনো নীতিমালা এখনও দেয়া হয়নি। কবে নাগাদ এ কার্যক্রম শুরু হবে সে বিষয়েও বলতে পারছেন না কেউ।
তবে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, রাজধানীর উত্তরায় ই-পাসপোর্ট তৈরির কারখানা রয়েছে। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু না বললেও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথমে ই-পাসপোর্ট উৎপাদনে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিতে পারে। তবে জুন মাস থেকে সক্ষমতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে সারাদেশে ই-পাসপোর্ট কার্যক্রম শুরু হবে। ডিসেম্বর নাগাদ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরা এ পাসপোর্টের জন্য নিজ নিজ মিশনে আবেদন করতে পারবেন।
মালয়েশিয়ায় বসবাসরত অনেকে বলছেন, মেশিন রিডেবল পাসপোর্টের (এমআরপি) চেয়ে ই-পাসপোর্ট অধিক নিরাপদ। বিশ্বের প্রায় ১১৮টি দেশে এ ধরনের পাসপোর্ট চালু রয়েছে। এটা চালু হলে এমআরপির ডাটাবেজ থেকে সব তথ্য ই-পাসপোর্ট ডাটাবেজে স্থানান্তর করা হবে। বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে চাহিদা মোতাবেক পর্যায়ক্রমে ‘ই-গেট’ স্থাপনের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয় ‘বর্ডার কন্ট্রোল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হলে প্রবাসীদের দেশে ফেরার সময় হয়রানির মুখোমুখি হতে হবে না।

সূত্র জানায়, বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারী, শ্রমিক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আলাদা ই-পাসপোর্ট ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্ট তৈরি ফি ১০০ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৫০ মার্কিন ডলার। ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১২৫ মার্কিন ডলার ও জরুরি ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে।
৬৪ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৫০ মার্কিন ডলার এবং জরুরি ফি ২০০ মার্কিন ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি সাধারণ ফি ১৭৫ মার্কিন ডলার এবং জরুরি ফি ২২৫ মার্কিন ডলার ধার্য করা হয়েছে।
এদিকে মালয়েশিয়ায় ই-পাসপোর্টের কার্যক্রম চালু না হলেও দেশটির জালান আম্পাং বেছার দূতাবাসে খোলা হয়েছে হটলাইন ও ওয়ানস্টপ সার্ভিস। এখন থেকে পাসপোর্টের জন্য আবেদন, তথ্যসেবা, বিনা পয়সায় আবেদন ফর্ম পূরণসহ তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান করা হবে।
হাইকমিশনের সংশ্লিষ্টরা জানান, যাদের পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের রি-ইস্যু পাসপোর্টের জন্য আবেদনের সঙ্গে ভিসার ফটোকপি সংযুক্ত করে যে ক্যাটাগরির ভিসা রয়েছে সে ক্যাটাগরিতে আবেদন করতে হবে।

সাধারণ শ্রমিক ও স্টুডেন্টদের জন্য ব্যাংক ড্রাফ্ট ১১৬ রিঙ্গিত এবং এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে ভিসার ফটোকপি। যারা প্রফেশনাল ভিসায় অথবা ট্যুরিস্ট ভিসায় দেশটিতে অবস্থান করছেন তাদের ৩৮৫ রিঙ্গিতের ব্যাংক ড্রাফ্ট করে আবেদন করতে হবে।
এছাড়া যাদের পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে তাদের জন্য থানায় রিপোর্ট করে আবেদনের সঙ্গে জমা দিতে হবে।
মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (নতুন) রি-ইস্যুর আবেদন গ্রহণ ও বিতরণের জন্য সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে দূতাবাসের পাসপোর্ট ও ভিসা শাখার প্রধান কাউন্সিলর মো. মশিউর রহমান তালুকদার জাগো নিউজকে বলেন, হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলামের দিকনির্দেশনায় প্রবাসী/শ্রমিকদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাৎক্ষণিক সমাধানের যথাসাধ্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

এছাড়া মালয়েশিয়ার জহুর বারু, পেনাং, মালাক্কা, সারওয়াক, ক্যামেরুন হাইলেন্ডসহ দূরের প্রদেশগুলোতে মোবাইল ক্যাম্পিংয়ের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন গ্রহণ ও ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে বন্ধের দিন প্রতি মাসের শনি ও রোববার পাসপোর্ট সেবা দেয়া হচ্ছে, যাতে প্রবাসীদের পাসপোর্ট করতে ও পেতে অসুবিধা না হয়। গড়ে প্রতিদিন ১২০০-এর অধিক সেবাপ্রত্যাশীর পাসপোর্ট সমস্যার সমাধান করা হচ্ছে।
পাসপোর্ট সেবার উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে মশিউর রহমান আরও বলেন, ওয়ানস্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে সঙ্গে সঙ্গে পাসপোর্ট ডেলিভারি দেয়া হচ্ছে। গত এক বছরে এক লাখ ১৮ হাজার ৪৪৫টি আবেদনের বিপরীতে এক লাখ ১৬ হাজার ৭১৪টি পাসপোর্ট বিতরণ করা হয়েছে।
এমএসএইচ/এমএআর/জেআইএম
from jagonews24.com | rss Feed https://ift.tt/2NOpksJ
No comments